দেশ তখন সবে স্বাধীন হয়েছে। শীতের এক নরম রোদে ভেজা সকালে গড়ের মাঠে এক বিশাল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাঙালি বনাম ইতিহাস। দু’পক্ষের অনুরাগী ও সমর্থকদের ভিড়ে একেবারে চৌরঙ্গী থেকে প্রায় কর্নওয়ালিস স্ট্রীট অবধি গমগম করছে। ইতিহাসের সমর্থকদের ভিড়ে বেশ কিছু ফিরিঙ্গিও ছিল; তারা থেকে থেকে স্লোগান দিচ্ছিল, “হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ”! বাঙালিও কম যায়না। তারা গলা ফাটিয়ে উত্তর দিচ্ছিল, “হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো”! এহেন উত্তপ্ত আবহাওয়ায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বাঙালিদের দলের অবস্থা সেসময় নেহাত ভালো নয়। রবি ঠাকুর প্রভৃতি নবজাগরণের অনেক সূর্যই তখন অস্ত গেছেন বা অস্তাচলে; সুভাষ বোস নিরুদ্দেশ। অতএব, প্রতিযোগিতার ফল বাঙালিদের অনুকূল হল না। নতুন দেহগঠনের প্রায় প্রাক্কালেই বাঙালি ইতিহাসের কাছে হেরে গেল।

বেশ কিছুদিন আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পরিচালক সন্দীপ রায় দাবী করেন যে এখন শীতের ছুটিতে বাঙালির অন্যতম আকর্ষণ নাকি বড়পর্দায় ফেলুদার ছবি। শুধু আকর্ষণ না, চাহিদা শব্দটিতেও জোর দেন তিনি। সুতরাং নিজের তাগিদে নয়, প্রায় দেশ ও দশের স্বার্থে তাকে বছরের পর বছর ধরে ফেলুদার গোয়েন্দাকাহিনী নিয়ে ছবি করে যেতেই হবে। ভাবা যায়! চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কোন চিত্রপরিচালকের এরকম আত্মত্যাগের কথা কেউ শুনেছে? তবে সত্যজিৎ তনয়ের জন্য সুখবর যে, এই মহান প্রচেষ্টায় বিগত কয়েক বছরে তিনি বহু কমরেড ও সহযোদ্ধাকে পাশে পেয়েছেন। বাঙালির বড়পর্দায় গোয়েন্দা গল্পের খিদে মেটাতে ব্যোমকেশ বক্সী, কিরীটী রায়, শবর দাশগুপ্ত থেকে শুরু করে অনামা, অখ্যাত, পেশাদারী, অ্যামেচার, ইত্যাদি সবরকম গোয়েন্দার ভিড়ে বাংলা সিনেমার অবস্থা প্রায় অফিস টাইমে ডালহৌসি গামী বাসের মত। আর সবসময় যে এই গোয়েন্দারা সাহিত্যের পাতা থেকেই উঠে আসছেন তাও নয়; অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে  তাদের আত্মপ্রকাশই ঘটছে ছবির পর্দায়। কল্কিযুগ (দেবারতি গুপ্ত, ২০১৫), চোরাবালি (শুভ্রজিৎ মিত্র, ২০১৬) অথবা অন্তর্লীন (অরিন্দম ভট্টাচার্য, ২০১৬) – কিছু সম্প্রতি উদাহরণ।

তবে ঢালাও গোয়েন্দা কাহিনী নিয়ে ছবি করার প্রবণতা সম্ভবত এই গত ডিসেম্বরেই এক্কেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। উপরোক্ত অন্তর্লীন ছাড়াও এই মাসে মুক্তি পায় সন্দীপ রায়ের ডবল ফেলুদা, অরিন্দম শীলের ব্যোমকেশ পর্ব এবং অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের কিরীটী রায়; তার মধ্যে ফেলুদা ও ব্যোমকেশের ছবি দুটি একই দিনে! হপ্তাদুয়েক বাঙালির মন এবং বক্স অফিস দাপিয়ে বেড়িয়ে শেষমেশ আমির খানের কুস্তি র প্যাঁচে এঁরা পর্দা ছাড়েন। নিন্দুকেও মানবে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে বেশ ভালোরকম জায়গা করে নিয়েছে ক্রাইম ও থ্রিলার ধর্মী ছবি। তবে এই তারতম্যের বিষদ আলোচনায় ঢোকার আগে এই শব্দগুলোর প্রয়োগের জায়গাটা দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ অনেক সময়েই দেখা যায় যে গোয়েন্দা (বা ডিটেকটিভ) বা ক্রাইম ড্রামা বা থ্রিলার, এই শব্দগুলোকে অদলবদল করে প্রায় সমার্থক শব্দের মত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ছবি বা এমনকি সাহিত্যেরও বিচারের জায়গায় কিছু ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে।

গোয়েন্দা কাহিনীর মূল জায়গায় থাকে একটি বা একাধিক অপরাধমূলক ঘটনা যার বিন্যাস বা পরিস্থিতি রহস্যজনক। এবং কাহিনীর মূল লক্ষ্যই থাকে সেই রহস্যের উন্মোচন ও সত্যের উদ্ঘাটন করা। গোয়েন্দা কাহিনীর আদি জনকদের অন্যতম এডগার অ্যালান পো তাঁর গল্পের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, “tales of ratiocination”, অর্থাৎ যুক্তিসম্মত চিন্তা প্রক্রিয়ার আখ্যান। গোয়েন্দা চরিত্র কর্তৃক এই সত্যের সন্ধান এধরণের কাহিনীতে এক জটিল প্রক্রিয়ার চেহারা নেয়; তাতে মুখ্য ভূমিকা নেয় তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, যুক্তির প্রয়োগ এবং তার উপর ভিত্তি করে নির্ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। সেভাবে দেখতে গেলে এই গোটা প্রক্রিয়ায় ইউরোপের রেনেসাঁ পরবর্তী আধুনিকতার দর্শনের ছাপ স্পষ্ট। এবং ধ্রুপদী ঘরানার গোয়েন্দারা, যেমন দুপঁ, হোমস, পোয়ারো, প্রভৃতি, সেই আধুনিক সত্তারই প্রতিফলন। সম্ভবত ঔপনিবেশিক কারণেই বাংলা গোয়েন্দা গল্পে এই ব্রিটিশ তথা ইউরোপীয় ঘরানার প্রভাবই পাওয়া যায়। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে গোয়েন্দা কাহিনীর যে ঘরানাটি সবথেকে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে তার জন্ম হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মার্কিন মুলুকে। ‘হার্ডবয়েল্ড’ নামে খ্যাত এবং সাহিত্যের কুলীন সমাজে উপেক্ষিত এই ধরণের রচনায় গোয়েন্দাগিরি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়ে দাঁড়ায় পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা ও তৎকালীন নাগরিক আধুনিকতার সমালোচনার আখ্যান। এই রহস্য উন্মোচনের প্রক্রিয়ার বাইরেও অপরাধ ও অপরাধমূলক প্রবণতা, যেকোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সাহিত্য বা সিনেমার বিষয় হয়ে উঠতেই পারে; সেক্ষেত্রে তার নির্মাণশৈলীর উপর ভিত্তি করে সেসব ছবিকে ক্রাইম ড্রামা বা থ্রিলার বা সাসপেন্স, ইত্যাদি জঁরে বিভক্ত করা যেতে পারে।

বাংলা সাহিত্যের মতো বাংলা ছবিতেও গোয়েন্দার চরিত্রে অনুরণিত হয় সেই রেনেসাঁ পরবর্তী আধুনিকতার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি। গোয়েন্দা ছবির পর্দায় ছেয়ে থাকে নবজাগরণের আলো। শুধু গোয়েন্দার চরিত্রায়নে নয়, ন্যারেটিভ বা গল্প বলার চলনেও সেই ধ্রুপদী গোয়েন্দা কাহিনীর রেশ। ‘হুডানিট’ নামে প্রচলিত এই ধরণের কাহিনীর বিন্যাসে গোয়েন্দা নিজে থাকেন তথ্যের পিরামিডের একদম শিখরে। এবং কাহিনীর অন্তিম অঙ্কে, অপরাধী চিহ্নিত হওয়ার পর একটি বিস্তারিত দৃশ্যে, সকলের সামনে তিনি ধীরে ধীরে নিজের যুক্তির জাল গোটাতে গোটাতে সত্যকে মেলে ধরেন। এবং এখানেই গোয়েন্দা কাহিনীর সফল চিত্রায়নের ব্যাপারটা বেশ গোলমেলে হয়ে পরে। চলচ্চিত্রের অন্যতম দুটি মূল জায়গা হল চলন (দৃশ্যের এবং সময়ের) এবং ক্যামেরার উপস্থিতি যার যান্ত্রিক চোখের প্রবণতা সবসময়ই অভিপ্রেত তথ্যের থেকে কিছুটা বেশি পরিবেশন করা। ফলে অনেক সময়েই ‘হুডানিট’ বিন্যাসের ক্ষেত্রে কাহিনীর ভিতরের যে তথ্যের পিরামিড, তাতে ফাটল দেখা দেয়। এবং সেই ফাটল দিয়ে কাহিনীর শেষ অঙ্কের বেশ খানিকটা চমক বেরিয়ে যায়। তাছাড়া ছবির শেষ পর্যায়ে এই রহস্য উন্মোচনের দৃশ্য গোটা ছবির চলন ও ছন্দের মধ্যে এক অহেতুক স্থবিরতা এনে দেয়; অর্থাৎ শব্দ-দৃশ্যের যুগলবন্দীর শেষে এক দীর্ঘায়ত বাগাড়ম্বর পূর্ণ মুহূর্ত যেখানে ছবির ইতঃপূর্বে পরিবেশিত তথ্যের পুনর্বিন্যাস ঘটে। এই কারণে ছবিতে ‘হুডানিট’-এর ব্যাপারে অ্যালফ্রেড হিচকক থেকে সত্যজিৎ রায়, সকলেই সন্দেহ ও দ্বিধা প্রকাশ করেছেন।

এই কারণে ছবিতে ‘হুডানিট’-এর ব্যাপারে অ্যালফ্রেড হিচকক থেকে সত্যজিৎ রায়, সকলেই সন্দেহ ও দ্বিধা প্রকাশ করেছেন।

বাংলা ছবি যেসময়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, অর্থাৎ ৫০ ও ৬০এর দশকের সেই স্বর্ণযুগে, মূলধারার ছবির প্রধান ফর্ম ছিল মেলোড্রামা। এই দুই দশক জুড়ে গোয়েন্দা বা থ্রিলার ধর্মী ছবির উদাহরণ নেহাতই বিক্ষিপ্ত। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে সেসব ছবি বিদেশী কোন গল্প বা ছবির অবলম্বনে তৈরি। যেমন অজয় করের জিঘাংসা (১৯৫১)  আর্থার কোনান ডয়েলের ‘হাউন্ড অফ দ্য বাস্কারভিলস’ উপন্যাস অবলম্বনে, হরিদাস ভট্টাচার্যের শেষ অঙ্ক (১৯৬৩) মাইক অ্যান্ডারসন পরিচালিত ‘চেস আ ক্রুকেড শ্যাডো’ ছবি অবলম্বনে, অথবা অগ্রদূতের কখনো মেঘ (১৯৬৮)  স্ট্যানলি ডনেন পরিচালিত ‘শ্যরাড’ ছবির ছায়ায় নির্মিত। কিন্তু তাই বলে বাংলা ছবিতে কখনোই ন্যারেটিভে বা চরিত্রে আধুনিক কল্পনা হ্রাস পায়নি। আদ্যন্ত বাঙালি এই মেলোড্রামাধর্মী ছবির মূল উপজীব্যই ছিল সামন্ততান্ত্রিক ও ঔপনিবেশিক ভাবনা ও সমাজব্যবস্থা থেকে আধুনিকতার পথে উত্তরণ। উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন অভিনীত একের পর এক ছবিতে এর উদাহরণ পাওয়া যায় যেখানে নায়ক-নায়িকার চরিত্রায়নে আধুনিকতা এবং আধুনিক সত্তার কল্পনা সুস্পষ্ট।

৭০এর দশকের গোড়া থেকে ৯০এর দশকের মধ্যে বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে যায় যেমন নকশাল আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বামফ্রন্টের ক্ষমতায় আসা এবং সবশেষে উদার অর্থনীতির সূচনা ও বিশ্বায়ন। অর্থাৎ কেবল টিভির পর্দায় নতুন মিলেনিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকা মধ্যবিত্ত বাঙালির সংজ্ঞা অনেকটাই পরিবর্তিত। নতুন অর্থনীতিতে দাঁড়িয়ে এই মধ্যবিত্ত অনেকটাই তার মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আক্ষরিক অর্থে বিত্ত দ্বারা সংজ্ঞায়িত। রাষ্ট্র ও বাজারের নিখুঁত মেলবন্ধনে তৈরি এই সমাজব্যবস্থায় সেই নতুন দেহগঠনের সময়ে যে আধুনিক নাগরিকের প্রয়োজন ছিল, সেই জায়গায় চাহিদা তৈরি হল আদর্শ ক্রেতার। এবং নতুন পুঁজিতে নবজীবন লাভ করা নতুন সহস্রাব্দের নতুন বাংলা সিনেমা সেই চাহিদার যোগান দিতে লাগল। কিন্তু এই বিকিকিনির দুনিয়ায় বাঙালির সবথেকে পছন্দের পণ্য নস্টালজিয়া; অর্থাৎ সেই সময়ের আবেশে গা ডুবিয়ে থাকা যখন রাষ্ট্র জীবনে বাঙালির প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু বাংলা ছবির তো আর সেই নায়ক নায়িকা কল্পনা করার কোন রাস্তা নেই! তাহলে এই পণ্যের বাজারে সফল কিন্তু সেই নবজাগরণ পরবর্তী আধুনিকতার আদর্শ কল্পনার বিকল্প কীইবা হতে পারে? এই সমস্যার মুস্কিল আসানে বাঁধ ভেঙ্গে পরার মতো হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন গোয়েন্দারা। সূর্যের দিকে পিঠ দিয়ে থাকা দর্শককুলও এই অচল হয়ে যাওয়া বিষয়বস্তু ও ফর্মের ছবিকে সানন্দে গ্রহণ করলেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বাঙালি দর্শকের হলে গিয়ে এইসব গোয়েন্দা ছবি দেখার রীতিটি প্রায় সেই প্রুস্টের ম্যাডেলাইনে কামড় বসানোর মতো; একটি সামান্য উপলক্ষ যার থেকে বিস্তারিত স্মৃতি রোমন্থনের দরজা খুলে যায়।

তবে একইদিনে মুক্তি পাওয়া ডবল ফেলুদাব্যোমকেশ পর্ব ছবি দুটিতে পরিচালক সন্দীপ রায় ও অরিন্দম শীল যথাক্রমে, সজ্ঞানে বা অজ্ঞাতসারে এই গোয়েন্দা দ্বয়ের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রতি যথাযথ বিচার করেছেন। সন্দীপ রায়ের ছবিতে ফেলুদার ভূমিকায় প্রবীণ নাগরিক সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং আগাগোড়া ছবি জুড়ে প্রায় স্থবির ক্যামেরার উপস্থিতি, কাপড় সেলাইয়ের মতো নিতান্তই ক্রিয়ামূলক সম্পাদনার কাজ এবং নেপথ্যে সত্যজিৎ রায় সুরারোপিত আবহসঙ্গীত। সব মিলিয়ে ছবিটি বাংলার নবজাগরণের প্রতিমূর্তি ফেলু মিত্তিরকে সম্পূর্ণ সফলভাবে মিউজিয়ামে সাজিয়ে রাখার মতো নির্জীব পদার্থে পরিণত করে। অন্যদিকে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখাতেই ব্যোমকেশ বক্সীর চরিত্রের দক্ষিনপন্থী রাজনীতি ও রক্ষণশীল মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যোমকেশ বল্লভভাই প্যাটেলের ডানহাত, প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির ও মূল্যবোধের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতি তার মনোভাব তীব্রভাবে ব্যঙ্গ পূর্ণ। অরিন্দম শীল এই চরিত্রটিকে নিয়ে স্রেফ কয়েক ধাপ এগিয়ে দিলেন। ছবিতে ব্যোমকেশ মাঠে নামলেন সরকারের হয়ে, কৃষক ও জন আন্দোলনের সমর্থক ও সমব্যথী এক অস্ত্রচালানকারীর বিরুদ্ধে এবং সবশেষে তেরঙ্গার নীচে দাঁড়িয়ে উদাত্ত কণ্ঠে (মানে আবির চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে যতটা সম্ভব) একগাল জাতীয়তাবাদী বক্তৃতা দিয়ে দিলেন।

অর্থাৎ স্রেফ একজোড়া ম্যাটিনি শো-তে বাঙালি আধুনিক সত্তা দুভাগে ভাগ হয়ে গেল। একজন যাদুঘরে মমি হয়ে গেল। অন্যজন হয়ে উঠল রাষ্ট্রের দালাল বা গোদাভাবে বললে যুগধর্মের নমুনা।

এই গোয়েন্দা লইয়া আমি কী করিব?

 

 

14702223_10202320897341289_1069739255751659493_n

লেখক বর্তমানে ইতিহাস খুঁড়ে জাপানের ছবির প্রত্ন উদ্ধারের স্বোপার্জিত দায়িত্বে নিয়োজিত।

 

Previous post

Next post

“দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়া কোন নিবেদন নেই , তুষার রায়ের জন্য” – অমিতাভ গুপ্ত

দেশের আগামীকাল

দেশের আগামীকাল

আগামীকাল : লোকাল-গ্লোবাল- ন্যাশানাল এবং বলা বাহুল্য, র‍্যাশনাল। ইন্ডিপেনডেন্ট মেজাজ, অল্টারনেটিভ সাজ। পোস্টমডার্ন ভাব, শান্ত স্বভাব। একবার পড়লে ভাবতে হবে আবার পড়তে এবং ভাবতে হবে । পড়া আর ভাবা প্র্যাকটিস করতে হবে।

1 Comment

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *