‘আমি মনে করি পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে সাম্রাজ্যবাদ, শোষণ আর নিপীড়ন কিউবার মত। এজন্য আংশিক দায়ী বাতিস্তার আমলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র যা নীতি নিয়েছিল। ফিদেল কাস্ত্রো সিয়েরা মায়েস্ত্রোতে যা বলেছে আমি তার সাথে একমত, ন্যায় প্রতিষ্ঠা আর দুর্নীতি থেকে মুক্তির জন্য কিউবা কাঁদছে। আমি আরও বলব, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নানা পাপের একটা কিউবা, প্রায়শ্চিত্ত তাকে করতে হবে। আমি কিউবার বিপ্লবীদের সাথে এব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করিনা’।–জন.এফ.কেনেডি
শেষ পর্যন্ত মার্ক্সের মহান ঐতিহাসিক মতবাদের সারবত্তা হল কিছু কচিকাঁচা কলেজ ছাত্তর, নানা ধান্দায় ঘুরে বেড়ান নার্কো অ্যানার্কো প্রাক্তন শ্রমিক আন্দোলনকারী, কফি হাউসে রাদ্দিন দাবা খেলা পেশাদার আড্ডাবাজ আর কয়েক পিস কিছুদিন সেনাবাহিনীতে গ্রেনেড বন্দুক নাড়াচাড়া করা ফৌজি এবং কিছু এদিকওদিক থেকে জুটিয়ে ফেলা আমেরিকা ইংল্যান্ডের বন্দুক। ব্যস, চলো মুক্তাঞ্চল বানাই।
এটা বিপ্লবের মতাদর্শ না কোরবুচ্চির হিট সিনেমার প্লট আমি বুঝতে অক্ষম। কিন্তু বিশ্বাস করুন বা না করুন এরচেয়ে ভাল রেজি দ্য ব্রের রিভ্যলুশ্য দাঁ লা রিভ্যলুশ্যকে বা ম্যারিঘেল্লার আর্বান গেরিলা বইটিকে, চাই কি খোদ চে গুয়েভারার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। আমাদের দেশের নকশাল আন্দোলন, জনযুদ্ধ, সীতারামাইয়া, কিষাণজী এই এক লাইনের কেস।
আমার মার্ক্স নিয়ে খানিক অন্য ধারণা হয়েছিল। আমার মার্ক্স পড়ে এমন মনে হয়নি যে, যেকোনো ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতেই নিম্নবর্গের মানুষের প্রতিনিধি বলে দাবী করা, সামন্তবাদ বা পুঁজিবাদ বা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কিছু আদর্শবাদী যুবক কিংবা খোদ নিম্নবর্গেরই কিছু মানুষ ক্ষমতা দখল করে নিলেই সমাজতন্ত্র চলে আসে। মনে হয়নি, সমাজতন্ত্র আর অন্যান্য সমাজব্যবস্থার মূল তফাৎ ‘কে’ শাসন করে। এমনকি এটাও মনে হয়নি ব্যক্তিমালিকানা থেকে ক্যাপিটাল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চলে গেলেই খুব পবিত্র হয়ে ওঠে সে মালটা।
মনে হয়েছে সমাজতন্ত্রে ক্যাপিটাল থাকে না। সমাজতন্ত্রে খারাপ শাসক বা ভাল শাসক, মালিক শ্রেণী থেকে আসা শাসক বা মজুর শ্রেণী থেকে আসা শাসক – কোন শাসকই থাকে না। মনে হয়েছে মার্ক্স পড়ে আর গোটা মানবেতিহাস দেখে, লেনিন, স্তালিন, মাও, চে, কাস্ত্রো আদতে সমাজতন্ত্র নয়, মরিয়া ধনতন্ত্রের শেষ প্রতিনিধি, কেননা আমি যতটুকু ইতিহাস বুঝেছি, ক্যাপিটাল আর কমোডিটির মৃত্যু অনিবার্য, অনিবার্য সবজান্তা নেতা আর শাসকশ্রেণীর অন্তিমদিন ঘোষণা । আজ না হয় কাল। যদিনা এরা পৃথিবীটাই ধ্বংস করে দেয়।

cuban-people5_agamikal
রুশ বিপ্লবের পর ইভিল এম্পায়ার তৈরি হয়েছিল এমন মার্কিন মতবাদের সাথে আমি একমত নই। বালখিল্য যৌথখামার বানাতে গিয়ে ভয়াবহ মন্বন্তর ডেকে আনা বা স্তালিনের শাসনকে চিরস্থায়ী করার বাসনায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে শ্রমশিবিরে নির্বাসিত করা, অনিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে খুন করার পেছনে কাজ করেছে এক রাজনৈতিক দর্শন। চীনেও পুনরাবৃত্তি হয়েছে তার। গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড বা কালচারাল রিভলিউশানের চেয়েও বেশী প্রকট ভাবে এটা প্রমাণ হয় ১৯৫৮র চড়াই উৎখাতের অভিযানে। মূলত ফসল রক্ষা করার তাগিদেই মাওয়ের এই ডাক। কিন্তু মাওয়ের মাথাতেই এটা ছিল না যে চড়াই না থাকলে অন্য কি ভাবে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। এভাবেই সমাজতন্ত্র যারা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে কখনো দেশের শাসক, কখনো দেশের পুঁজিপতিদের উৎখাত করে ফেললেই সমাজতন্ত্র এসে যাবে এমন মায়োপিয়ায় ভুগেছে। আর কয়েক দশকেই প্রমাণ হয়ে গেছে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে ধনতন্ত্র অনেক গভীরে গিয়ে বাসা বেঁধে আছে। সমাজতান্ত্রিক প্রায় সব দেশেই ধনতন্ত্র ফিরে এসেছে আবার। কোরিয়াতেও ফিরে আসবে, কোন সন্দেহ নেই। চীন আর কিউবাতে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি আর বড়জোর এক দশক টিকবে। চীনে ধনতন্ত্র এখন অর্থনীতিতে সুপ্রতিষ্ঠিত।
নেতাদের প্রত্যেকেরই দাবি, দেশের পরিচালনায় সেই যোগ্যতম প্রার্থী। এটা কেউ গণতান্ত্রিক ভাবে করার চেষ্টা করে, মার্ক্সবাদীদের মুখ্য অংশের প্রয়াসটা সশস্ত্র। বৃহত্তর জনতার সমর্থন নেওয়াটা একটা লেজিটিমেসি খুঁজে পাওয়া। একান্ত ১% বিপ্লবীদের একনায়কতন্ত্রের চেয়ে শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কতন্ত্র বা মেহনতি মানুষের একনায়কতন্ত্র বলতে গালভরা শোনায়, সরকারের সহযোগী নানা কৃষকের, শ্রমিকের সংগঠন থাকলে সংখ্যালঘুর একনায়কতন্ত্র অন্যদের বোঝাতে সুবিধা, নিজেকেও বিশ্বাস করাতে পারে যে সে একটা ভয়ানক বিপ্লবী কার্যকলাপ করছে।
সবটাই যে খারাপ করে এমন না, রুশবিপ্লবের পর আপামর সোভিয়েত নাগরিকের সাক্ষরতা বেড়েছে, চীন আর কিউবাতে তো স্কুল পড়ুয়ারা নেমে গেছে সাক্ষরতা অভিযান করতে। কিউবায় নাকি এক বছর সব স্কুল কলেজ বন্ধ রেখে ছাত্র শিক্ষক সকলে মিলে সাক্ষরতা আন্দোলনে সামিল হয়েছিল। এই দেশগুলোয় রোমান্টিক সমাজতন্ত্র চলাকালীন আয়ের বৈষম্য কমে যায়, ধীরেধীরে নমেনক্লাতুরাদের নয়া অভিজাততন্ত্র তৈরি হলেও ধনতন্ত্র না থাকায় খাতাকলমে আয়ের বৈষম্য আসে না, ক্ষমতার বৈষম্য থাকে, পার্টির  কর্তৃপক্ষ না চাইলে কোন স্তরেই কেউ শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান, চাকরিতে কিছু করতে পারে না। তবুও এই আয়ের বৈষম্য না থাকাটা একদিকে ভাল। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি সোভিয়েত, চীন, কিউবা প্রতিটি দেশেই হয়েছিল, সরকারী খরচে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া নিশ্চয় সাধারণ মানুষের লাভ। এছাড়াও আরও কয়েকটা সাম্য মধ্যবিত্ত বিপ্লবী নেতারা নিয়ে আসে। সোভিয়েত দেশে ঈহুদীবিদ্বেষ থাকলেও রুশ আর অন্যান্য জাতির মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণে ছিল, জাতিসত্তাগুলোর রুশীকরণের পাশাপাশি কোটা ব্যবস্থা করে তাদের মেধাবী অংশকে উচ্চতর শিক্ষা আর পদে দ্রুত নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়, চীনে তিব্বতি আর মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখলেও জনজাতির উন্নতির জন্য একটা চেষ্টা মাও আমলে ছিল, সাদা বেড়াল দিয়ে কালো ইঁদুর ধরার আমলে অবশ্য বলা মুশকিল কি হচ্ছে। কিউবায় ক্ষমতার অলিন্দে এখনো সাদা চামড়ার প্রাক্তন ঔপনিবেশিক স্প্যানিশ বংশোদ্ভূতদের ভিড় হলেও কৃষ্ণাঙ্গ সমাজের যে উন্নতি হয়েছে সেটা অনস্বীকার্য, মিশ্র যৌনসম্পর্ক, মিশ্র জাতির জন্ম কিউবায় বর্ণভেদ অনেকটাই ঘুচিয়ে দিয়েছে।

cuban-people4_agamikal
কিন্তু যে কথা একটু আগে বলছিলাম, প্রত্যেক হারুদাই নিজেকে সেরা ক্রিকেট বোদ্ধা মনে করার মত প্রত্যেক কমিউনিস্ট নেতাই মনে করেছেন তিনিই শ্রেষ্ঠ, তিনিই পথ, কাজেই সর্ব ধর্মাণ পরিত্যাজ্যং মামেকম স্মরণং ব্রজ। এখানেই মার্ক্সের পিণ্ডি দিয়েছেন তারা।
মার্ক্স লিখছেন, আমরা পৃথিবীকে বলব না: তোমার লড়াই বন্ধ কর, আমরা তোমাকে লড়াইয়ের নতুন মন্ত্র দিচ্ছি। আমরা খালি দেখিয়ে দিই ঠিক কি জন্য সে লড়ছে, সচেতন সে হবেই, না চাইলেও হবে।
আরও মনে করাব আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট লিগের সেই ঘোষণা, যা বারবার মার্ক্স উদ্ধৃত করেছেন, ‘শ্রমিকশ্রেণীকে মুক্ত করার দায়িত্ব শ্রমিক শ্রেণীর নিজের’।এই কথাগুলো ভুলে গিয়ে যখনই অন্য কোন শ্রেণী থেকে মহাবিপ্লবীরা এগিয়ে আসবেন মেহনতি মানুষকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে তখন যা হবে তা একটা মস্তিষ্ক প্রসূত ব্যবস্থা, নয়া কোন থিওক্রেসী। মহান নেতার শুভেচ্ছা কিছুতেই কিছু করতে পারবে না, সমাজতন্ত্র দুরস্ত, সামান্য দারিদ্র দূরীকরণও সম্ভব হবে না, আর অবধারিতভাবে যাবতীয় বিপ্লবের পরিসমাপ্তি ঘটবে পুঁজিবাদের পুনরাগমনে।
কিউবা নিয়ে তোবা তোবা করার আগে একটু দেখা যাক কি কি হয়েছিল কিউবায়।
বাতিস্তা পালিয়ে যাওয়ার পর প্রথম সাক্ষাৎকারে কাস্ত্রো বলছেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে তার কোন বিদ্বেষ নেই। দোষ বিদেশসচিবদের। মার্কিন সম্পত্তি কিউবায় সম্পূর্ণ নিরাপদ।

cuban-people_agamikal
এপ্রিল মাসে কাস্ত্রোর আমেরিকা অভিযান,  আইজেনহাওয়ার দেখা না দিলেও নিক্সনের সাথে কাস্ত্রো দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন, কাস্ত্রোর ভূমিসংস্কার বা অন্যান্য কোন সংস্কারের পরিকল্পনাই নিক্সন মেনে নিতে পারেনি। বাস্তবে কাস্ত্রোর সংস্কারের মধ্যে বৈপ্লবিক কিছুই ছিল না। ১০০০ একরের বেশী জোতের পুনর্বণ্টন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ বছরের বন্ড, ৪.৫% বাৎসরিক সুদে, উল্ফ লাডেজিন্সকির হাতে ঘটা জাপান বা তাইওয়ানের ভূমিসংস্কার থেকে বেশি হারে, কম সময়ে ক্ষতিপূরণ দিতে আগ্রহী ছিল কাস্ত্রো। ভোটাভুটি না করে সরকার গঠনও মার্কিনদের কাছে নতুন কিছু না। আসলে কিউবার ধনী আর মার্কিন পুঁজিপতিদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে মার্কিন সরকার চাপ বেশী দিয়ে ফেলল কিউবাকে। ফিদেলের কাছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাপকাঠি শেষ ট্যাক্স রিটার্ন, বিপুল কর ফাঁকি দেওয়া কোম্পানিগুলোর কাছে এটা শিরে সর্পাঘাত। বাতিস্তার আমলে ঘুষ দিয়ে আয়, উৎপাদন কম দেখানোটাই রীতি ছিল। তখনও ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ফিদেল বলে যাচ্ছেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেবেন, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিপ্লবের অংশ, শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কতন্ত্র তার পছন্দ না, শ্রেণী সংগ্রাম বা শ্রেণী ঘৃণা তার অভিধানে নেই। নাসের আর নেহেরুর সাথে বিশ্বের দুই মেরুর বাইরে থাকাতেই আগ্রহী কাস্ত্রো।
মার্কিন সাহায্য বঞ্চিত কিউবা এবারে শুধু ভূমিসংস্কারই করল না, বিদেশী সম্পত্তি, জমি, কারখানা রাষ্ট্রায়ত্ত করে নিল। উত্তরে মার্কিনীরা কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করল, কিউবা থেকে চিনি কেনা আর কিউবাকে খনিজ তেল দেওয়া বন্ধ করে দিল। কিউবার সাথে ন্যাটো জোটের মুখ দেখাদেখি বন্ধর সেই শুরু।
এমত অবস্থায় সোভিয়েত দেশের মঞ্চে আগমন, ত্রিশ লক্ষ টন চিনি আন্তর্জাতিক দরের চেয়ে বেশি দামে কিনে নিয়ে কিউবাকে কম দামে তেল রপ্তানির সোভিয়েত নীতি আদতে এক নয়া ঔপনিবেশিক রাজনীতি, ঠান্ডা লড়াইয়ের ঘুঁটিতে পরিণত হল কিউবা। বাস্তিতার সাথে একরকম সমঝোতা করে চলা মস্কোপন্থী পার্তিদা সোসিয়ালিস্তা পপুলার আর কাস্ত্রোর ২৬শে জুলাই আন্দোলন একাকার হয়ে গেল। এরপর আমরা দেখব এক এক করে কাস্ত্রোর গ্রানমা গেরিলা বাহিনীর একটা  অংশ জেলে যাবে, খুন হবে, পালিয়ে চলে যাবে দেশ ছেড়ে। মস্কোর নির্দেশে পুরোন পার্টি এক শস্য চাষের নীতি নেবে, মাথাপিছু উৎপাদন না বাড়িয়ে স্রেফ মস্কোর ভর্তুকিতে দেশ চালাবে, আদ্যন্ত আমলাতন্ত্রের সাহায্য নিয়ে, যে আমলাতন্ত্রের মূলমন্ত্র ফিদেলভজনা আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে  মস্কোর নির্দেশে বসা, মস্কোর নির্দেশে দাঁড়ানো। বিনিময়ে কিউবা পাবে শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামোয় রুশ সাহায্য, পাবে রুশ প্রযুক্তিবিদ আর বিশেষজ্ঞ, পাবে একদল ককেশীয় শিশু, যাদের নাম ইউরি, আলেক্সি,ইভগেনি।
এই গোটা ইতিহাস বুঝতে অসুবিধা হয়। আমাদের বিপ্লবী পাঠক্রমে ক্ষমতা দখলটুকু আছে, বিপ্লবের পরে কি শ্রেণীসম্পর্ক থাকে, সেটা নেই, অর্থনীতি নেই, কি করে একটা ছোট খামারেরও পরিচালনব্যবস্থা ঠিক হবে নেই, দেশের কি কি ব্যবহার্য চাই, সেটা কে ঠিক করবে, তাও নেই, নেই দেশের শাসনকাজ বা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা কি করে হবে। সবই পরিস্থিতি দিয়ে ঠিক হবে, সবই শ্রমিকশ্রেণীর নামে হবে। হবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভয় দেখিয়ে। যতটা মার্কিন বিপদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা যায় ততটাই করে ফেলেছে কিউবার শাসকদল। বিপদকেও যে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা যায় সেটা অবশ্য স্তালিন আগেই দেখিয়ে গেছে। এই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ধনতন্ত্র বনাম সমাজতন্ত্রের সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক বিরোধ নেই, নতুন সমাজের প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক বিবর্তন নেই, স্রেফ কয়েকটা ওপর ওপর অপারেশন হয়ে গেলেই হল।
রাজতন্ত্র, ধনতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র ছাড়াও আরেক সমাজব্যবস্থার কথা নথিপত্রে বলার দরকার, অর্থনৈতিক ভাবে অদক্ষ, আমলাতান্ত্রিক, রাষ্ট্রায়ত্ত, আধাসামন্ততান্ত্রিক, আধাথিওক্রেটিক এক যুদ্ধরাষ্ট্র।
আমাদের মধ্যবিত্ত বামপন্থীদের প্রথম পছন্দ এই হাইব্রিড জন্তু।
কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের ধারায় এটা কি ধনতন্ত্র সমাজতন্ত্রের মাঝের জীব নাকি সমাজতন্ত্রের গর্ভপাত?

arka-sen

অর্ক সেন (জন্ম ১৯৬৬) সিআইএর টাকা পান না। তা সত্বেও তার স্বচ্ছন্দে চলে যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি নিয়ে স্নাতক। শান্তিনিকেতনেও কিছুদিন ছিলেন। অঙ্কচর্চা করেছেন, চর্চা করেছেন দর্শন, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য। সাধারণ মানুষের স্বশাসিত সংগঠন পরিচালনার প্রকল্প প্রণয়নে সাহায্য করেন । পরিবেশ বান্ধব সেচ, কৃষি, প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে কাজ করেছেন। অবসর সময়ে বই পড়েন, ধ্রুপদী সঙ্গীত শোনেন, পূর্ব ইউরোপের সিনেমা দেখেন। থাকেন শহরতলীতে।

Previous post

Next post

সাঁওতাল রমণীর উদ্দাম যৌবন উপভোগ করতে পুরুলিয়া চলুন - সায়ন্তন মিত্র

দেশের আগামীকাল

দেশের আগামীকাল

আগামীকাল : লোকাল-গ্লোবাল- ন্যাশানাল এবং বলা বাহুল্য, র‍্যাশনাল। ইন্ডিপেনডেন্ট মেজাজ, অল্টারনেটিভ সাজ। পোস্টমডার্ন ভাব, শান্ত স্বভাব। একবার পড়লে ভাবতে হবে আবার পড়তে এবং ভাবতে হবে । পড়া আর ভাবা প্র্যাকটিস করতে হবে।

No Comment

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *